যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য আলোচনা নিয়ে অনিশ্চয়তার প্রভাবে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ আরো বেড়েছে। ফলে বিশ্ববাজারে আরো কমছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। এছাড়া ওপেক প্লাসের সরবরাহ বাড়ার সিদ্ধান্তও পণ্যটির দামে প্রভাব ফেলছে। খবর রয়টার্স।
অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম গতকাল ব্যারেলে ১৩ সেন্ট বা দশমিক ১৯ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। ব্যারেলপ্রতি মূল্য স্থির হয়েছে ৬৬ ডলার ৭৪ সেন্টে। অন্যদিকে মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম কমেছে ১২ সেন্ট বা দশমিক ১৯ শতাংশ। প্রতি ব্যারেলের মূল্য নেমেছে ৬২ ডলার ৯০ সেন্টে।
ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান পিভিএমের বিশ্লেষক জন এভান্স বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের বাণিজ্য যুদ্ধ বর্তমানে জ্বালানি তেলের দামের গতিপথ নির্ধারণে প্রধান ভূমিকা রাখছে। বর্তমানে এটি ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক আলোচনা ও ওপেক প্লাস জোটের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যকেও ছাপিয়ে যাচ্ছে।’
জ্বালানি তেল ও বাজার বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান ভানডা ইনসাইটসের প্রতিষ্ঠাতা বন্দনা হরি বলেন, ‘বাজার অংশগ্রহণকারীরা যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য উত্তেজনা প্রশমন হওয়ার যেকোনো ইঙ্গিতকে বিনিয়োগের সুযোগ হিসেবে দেখবে।’
পেট্রোলিয়াম রফতানিকারক দেশগুলোর সংস্থা ওপেক ও রাশিয়াসহ অন্যান্য সহযোগী দেশগুলোর সংগঠন ওপেক প্লাস। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৫ মে বৈঠকে দ্বিতীয় মাসের মতো উত্তোলন বাড়ানোর প্রস্তাব দিতে পারে জোটটি।
এদিকে ওপেক সর্বশেষ মাসভিত্তিক প্রতিবেদনে জানায়, বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের চাহিদা প্রবৃদ্ধি চলতি ও আগামী বছর আরো কমতে পারে। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকের (জানুয়ারি-মার্চ) তথ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত বাণিজ্য শুল্কের প্রভাব বিবেচনা করে আগে দেয়া পূর্বাভাস সংশোধন করা হয়েছে।
ওপেক জানায়, ২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের দৈনিক চাহিদা ১৩ লাখ ব্যারেল ও ২০২৬ সালে দৈনিক ১২ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেল বাড়তে পারে। দুই বছরের জন্য দেয়া এ পূর্বাভাস এর আগের দেয়া প্রাক্কলনের তুলনায় দৈনিক গড়ে ১ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল কম।
ওপেক প্রতিবেদনে আরো জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতি ও ওপেক প্লাসের সম্ভাব্য উত্তোলন বৃদ্ধি—এ দুই কারণেই চলতি মাসে জ্বালানি তেলের দামে চাপ তৈরি হয়েছে।
ওপেক চলতি বছরের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৩ দশমিক ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩ শতাংশে নামিয়ে এনেছে। এছাড়া ২০২৬ সালে এ প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৩ দশমিক ১ শতাংশ, আগে দেয়া পূর্বাভাসে যা ছিল ৩ দশমিক ২ শতাংশ।
সংস্থাটি জানায়, ‘বছরের শুরুতে বৈশ্বিক অর্থনীতি স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি দেখিয়েছে। তবে সাম্প্রতিক বাণিজ্যসংশ্লিষ্ট গতিপ্রবাহ স্বল্পমেয়াদে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।’